ইরানের ৫ নারী ফুটবলারকে আশ্রয় দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া

· Prothom Alo

ঘটনাটা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঠিক দুই দিন পরের। নারী এশিয়ান কাপের ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল ইরান। ম্যাচের আগে যখন ইরানের জাতীয় সংগীত বাজছিল, ফুটবলাররা তখন পাথরের মতো স্থির ছিলেন। ঠোঁট নড়েনি একজনেরও।

Visit iwanktv.club for more information.

অনেকেই মনে করছেন, এটি ইরানের বর্তমান শাসকদের বিরুদ্ধে নারী ফুটবল দলের প্রতিবাদ। এই ঘটনা ইরানে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, যা নারী ফুটবলারদের ঠেলে দেয় চরম অনিশ্চয়তার মুখে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি তাঁদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ তকমাও দেওয়া হয়।

এ ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়ার কাছে ইরানের মেয়েদের নিরাপত্তা দাবি করেন ইরানের প্রয়াত শাহর পুত্র রেজা পাহলভি। অন্যদের মধ্যে ‘হ্যারি পটার’ স্রষ্টা জে কে রাউলিং ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ক্যাম্পেইনার জাকি হায়দারিও ইরানি মেয়েদের নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ইরানি নারী ফুটবলারদের নিরাপত্তা ও অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় দেওয়ার দাবি

পরবর্তী সময়ে এশিয়ান কাপে খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়া ইরানের নারী ফুটবল দলের পাঁচ খেলোয়াড় মঙ্গলবার সেখানে আশ্রয় প্রার্থনা করেন। নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থেকেই এ সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। খেলোয়াড়দের এই আবেদন মেনে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া সরকার তাঁদের আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, দলের অধিনায়ক জাহরা ঘানবারিসহ পাঁচ খেলোয়াড় সোমবার গভীর রাতে দলীয় হোটেল ছেড়ে গোপনে বেরিয়ে অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষের কাছে আশ্রয় চান।

নথিপত্রে স্বাক্ষর করা হচ্ছে

এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ বলেন, ‘আমরা কিছুদিন ধরেই এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম। এই সাহসী নারীদের দুর্দশা অস্ট্রেলিয়ার মানুষকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তাঁরা এখানে নিরাপদ এবং এখানেই যেন নিজেদের ঘরের মতো অনুভব করেন।’ জাহরা ছাড়া অন্য চার নারী হলেন ফাতেমেহ পাসানদিদেহ, জাহরা সারবালি, আতেফেহ রামাজানজাদেহ ও মোনা হামৌদি।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ দেশটির গণমাধ্যমকে সংযম দেখানোর জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি ইঙ্গিত দেন, খেলোয়াড়েরা নিরাপদে পৌঁছানো পর্যন্ত আশ্রয় প্রার্থনার খবরটি প্রকাশ করা হয়নি। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক জানান, সরকারের পক্ষ থেকে কয়েক দিন ধরে গোপনে খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনা চলছিল। গোল্ড কোস্টের হোটেল ছাড়ার পর তাঁদের দ্রুত একটি নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়।

প্রকাশিত এক ছবিতে দেখা যায়, একটি টেবিল ঘিরে খেলোয়াড়েরা বসে আছেন, আর টনি বার্ক মানবিক বিবেচনায় অস্ট্রেলিয়ায় থাকার বিশেষ ভিসার কাগজপত্রে সই করছেন। বার্ক বলেন, বিশেষ ভিসা পাওয়ার পর খেলোয়াড়েরা ‘অজি, অজি, অজি’ স্লোগানে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। দলের বাকি সদস্যরাও চাইলে অস্ট্রেলিয়ায় থাকতে পারবেন বলেও জানান তিনি।

ইরানের বাকি খেলোয়াড়েরা দেশে ফিরে যাবেন, নাকি কবে অস্ট্রেলিয়া ছাড়বেন, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেন, পাঁচ খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা তত্ত্বাবধানে আছেন। গভীর রাতে প্রধানমন্ত্রী আলবানিজের সঙ্গে ফোনালাপের পর তিনি এ তথ্য জানান।

এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ট্রাম্প অস্ট্রেলিয়ার প্রতি সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। খেলোয়াড়দের জোর করে ইরানে ফেরত পাঠানো হলে সেটি ‘ভয়াবহ মানবিক ভুল’ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

Read full story at source