জরুরি সেবা ও জরুরি নম্বর—ঐতিহাসিক পটভূমি

· Prothom Alo

আজ আমি এমন একটা বিষয় নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব, যা হয়তো আপনারা সবাই জানেন, আর সেটা হলো জরুরি নম্বর ও সেবাসমূহ। আসলে জীবনের অপ্রত্যাশিত মুহূর্তগুলোতে জরুরি সেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা, স্বাস্থ্য সমস্যা, দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড বা অপরাধের মতো পরিস্থিতিতে এই সেবাগুলো মানুষের জীবন বাঁচাতে এবং সমস্যার দ্রুত সমাধান করতে সহায়ক হয়। বস্তুত জরুরি সেবা শুধু বিপজ্জনক মুহূর্তে নয়, সমাজের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। আমাদের উচিত এই সেবাগুলোর সম্পর্কে সচেতন থাকা ও প্রয়োজনে সঠিকভাবে ব্যবহার করা। আমাদের দেশে যেসব পরিষেবা জরুরি নম্বরের আওতায় আছে তা হলো—

১. স্বাস্থ্য জরুরি সেবা

Visit palladian.co.za for more information.

হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর অ্যাম্বুলেন্সসেবা রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানোর সুযোগ দেয়। জরুরি ডাক্তার ও নার্স ২৪/৭ প্রস্তুত থাকেন। অ্যাপস ও হটলাইনগুলোর মাধ্যমে মানুষ প্রয়োজনীয় পরামর্শও নিতে পারেন।

২. অগ্নিসেবা

ফায়ার সার্ভিস দুর্ঘটনাজনিত অগ্নিকাণ্ড বা যেকোনো আগুনের বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রথম প্রতিক্রিয়াশীল হিসেবে কাজ করে। ফায়ার স্টেশনগুলো প্রায়শই শহরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত, যাতে দ্রুত পৌঁছানো যায়।

৩. পুলিশ ও নিরাপত্তাসেবা

অপরাধ, চুরি ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ঝুঁকিতে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জরুরি নম্বর ব্যবহার করে দ্রুত সাহায্য পাওয়া যায়। এ ছাড়া ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তার জন্যও পুলিশ নিয়মিত কার্যক্রম চালায়।

৪. প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও উদ্ধারসেবা

বন্যা, ভূমিকম্প, ঝড় বা অন্যান্য প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে উদ্ধার দল অর্থাৎ ডিজাস্টার রেসপন্স টিম তৎপর থাকে। তারা উদ্ধার, খাদ্য ও আশ্রয় প্রদানের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ায়।

৫. প্রযুক্তির ভূমিকা

মোবাইল অ্যাপ, জিপিএস ও জরুরি হটলাইন সেবার মাধ্যমে মানুষ এখন খুব সহজে এবং দ্রুত সাহায্য পেতে পারে। অনেক দেশে ৯১১ বা ১০১-এর মতো নম্বরে হটলাইন সার্ভিস ২৪/৭ চালু থাকে প্রয়োজনীয় কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে।

এ তো গেল আমাদের দেশের চিত্র। কিন্তু আমরা এই জরুরি সেবার পেছনের ইতিহাসটা একটু জেনে আসি। বিশ্বের প্রথম জাতীয় জরুরি কল নম্বর ‘৯৯৯’ চালু হয় ১৯৩৭ সালে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে। এই তিন ডিজিট নম্বর দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, কারণ এটি সহজে মনে রাখা যেত এবং বিপদে কোনো রকম টাকা খরচ না করেই কল করা যেত। এই সিস্টেমের মাধ্যমে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত সংযুক্ত হতে পারে এবং পরবর্তী সময়ে ১১২ ও অন্যান্য আধুনিক ফোনিং প্রযুক্তির সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করে থাকে, যাতে যেকোনো অ্যাপ্রোচ কল দ্রুত সঠিক স্থানে পৌঁছায়।

পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে একটি একক জাতীয় জরুরি কল নম্বর (৯১১) চালু হওয়ার আগপর্যন্ত নাগরিকদের সাহায্য পেতে বিভিন্ন স্থানীয় নম্বরে কল করতে হতো। ৯১১ সিস্টেমটির প্রথম কল ১৯৬৮ সালে আলাবামার হেলিভিল থেকে করা হয়েছিল, এবং তখন থেকে দেশজুড়ে এটি জরুরি সেবা যোগাযোগের মূল মাধ্যম হিসেবে গড়ে ওঠে। এই সিস্টেম শুধু পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ নয়, ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য জরুরি সেবা দলকে দ্রুত নির্দেশ দেওয়ার মাধ্যমে মানবজীবন রক্ষায় সাহায্য করে। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই এখন জাতীয় জরুরি নম্বর ও জরুরি সেবা রয়েছে। তবে নম্বর ও পরিচালনা কাঠামো দেশভেদে ভিন্ন। জরুরি সেবা শুধু বিপজ্জনক মুহূর্তে নয়, সমাজের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের উচিত এই সেবাগুলোর সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং প্রয়োজনে সঠিকভাবে ব্যবহার করা।

দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]

এবার ফেরা যাক আমাদের দেশের দিকে। বাংলাদেশে ‘৯৯৯’ জাতীয় জরুরি নম্বর ১২ ডিসেম্বর ২০১৭ থেকে চালু হয়। এটি একটি টোল–ফ্রি সেবা, যেখানে মোবাইল বা ল্যান্ডলাইন ফোন থেকেই বিনা খরচে কল করলে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস বা অ্যাম্বুলেন্সে সংযুক্ত করা হয় এবং ক্রমান্বয়ে আরও অনেক সুবিধা এরই আওতায় আনা হয়। আগে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্সে আলাদা আলাদা নম্বরে কল করতে হতো। ৯৯৯ নম্বর চালু হওয়ায় এখন একটি মাত্র কলেই সব জরুরি সেবাকেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়।

সম্প্রতি খবরের কাগজে ছাপা একটি খবর আমার মতো অনেকের নজর কেড়েছে যে ঢাকার খিলগাঁও এলাকায় নবম শ্রেণির স্কুলছাত্রকে অপহরণ করার ঘটনা। খবরে জানা গেল, অপহরণকারীরা ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে তাকে আটকে রাখে। পরে ছাত্রটির পিতা, যিনি সেক্রেটারিয়েটে কর্মরত, তিনি প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চান এবং তারই নির্দেশে পুলিশ অতি দ্রুততার সঙ্গে উদ্ধারের ব্যবস্থা নেয়। প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অপহৃত ছাত্রটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে। পরে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দেখা যায় এই অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আরও অনেক অপহরণকাণ্ডে মামলা রয়েছে। নিঃসন্দেহে প্রধানমন্ত্রী এটার জন্য প্রশংসার দাবিদার, কিন্তু কথা হলো এ রকম একটি ছোট্ট ঘটনা কেন প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করতে হবে আর উনাকেই–বা কেন একজন পুলিশ অফিসারকে বিষয়টি জানাতে হবে। আমরা জানি বাংলাদেশে ‘৯৯৯’ জাতীয় জরুরি নম্বর আছে, আর এই ঘটনার ভার পুলিশর ওপর ন্যস্ত। যদি এই জরুরি পরিষেবা কাজ না করে তার ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে যাতে সার্ভিসটি কার্যকর ও জনগণের প্রকৃত সুফল পায় এবং পুলিশ যেন দ্রুততার সঙ্গে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে। এর কারণ বাংলাদেশে এ ধরনের আনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে এবং ঘটবে, আর তা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে এত মাইক্রো ম্যানেজমেন্ট করা কোনোভাবে সম্ভব হবে না।

Read full story at source