স্বপ্নের গ্রাহকের তথ্য ফাঁস
· Prothom Alo

দেশের সুপরিচিত চেইন স্টোর স্বপ্নের গ্রাহকদের তথ্য ফাঁস করেছে হ্যাকারদের একটি দল। স্বপ্ন কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, হ্যাকারদের দাবি অনুযায়ী দেড় মিলিয়ন ইউএস ডলার না দেওয়ায় গ্রাহকের তথ্য প্রকাশ করে হ্যাকাররা।
Visit xsportfeed.quest for more information.
আজ শনিবার স্বপ্নের গ্রাহকের ফোন নম্বর, নাম ও কেনাকাটার বিস্তারিত তথ্য অনলাইনে প্রকাশ করে দেয় হ্যাকারদের দলটি।
স্বপ্ন কর্তৃপক্ষ বলছে, গত বছরের মাঝামাঝিতে গ্রাহকের তথ্যভান্ডার নিয়ন্ত্রণে নেয় আন্তর্জাতিকভাবে হ্যাকিংয়ে জড়িত র্যানসমওয়ার গ্রুপ। সম্প্রতি সেই নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে তাদের কাছে দেড় মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি ১৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা (১ ডলার=১২২. ৭১ টাকা ধরে) দাবি করা হয়। দাবি পূরণ না হওয়ায় গ্রাহকের তথ্য ফাঁস করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, র্যানসমওয়্যার হচ্ছে, এমন একধরনের ম্যালওয়্যার, যা কম্পিউটারের দখল নেয়, যাতে ব্যবহারকারীকে অর্থ পরিশোধ না করা পর্যন্ত ঢুকতে দেয় না।
স্বপ্নের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাব্বির হাসান বলেন, ‘হ্যাকারদের সঙ্গে আমরা কোনো আপস করিনি।’ এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান তিনি।
স্বপ্ন এসিআই লিমিটেডের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান।
হ্যাকিংয়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে জানিয়ে এসিআই লজিস্টিকস লিমিটেডের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত বছরের ২০ আগস্ট আন্তর্জাতিক হ্যাকার দল র্যানসমওয়ার গ্রুপের সদস্যরা স্বপ্নের কাছে দেড় মিলিয়ন মার্কিন ডলার দাবি করে। এ ঘটনার পর এসিআই লজিস্টিকস থেকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এসিআই লজিস্টিকস বলছে, গ্রাহকের তথ্যের গুরুত্বকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে স্বপ্নের আইটি অবকাঠামোকে বিশ্বমানে নিয়ে যেতে নেক্সট জেনারেশন ফায়ারওয়াল ও সার্ভারের সুরক্ষায় এন্টারপ্রাইজ গ্রেড সিকিউরিটি সলিউশন স্থাপন করা হয়েছে, এন্ডপয়েন্ট প্রটেকশন ও অ্যাডভান্সড অ্যান্টিভাইরাস সিস্টেম নিশ্চিত করা হয়েছে ও সাইবার সিকিউরিটি স্পেশালিস্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে হবে বলে জানিয়েছে এসিআই লজিস্টিকস। গ্রাহকের সংবেদনশীল ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য সুরক্ষিত রয়েছে বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।
সম্ভাব্য প্রতারণা থেকে সুরক্ষিত থাকতে বিবৃতিতে গ্রাহককে অজানা বা সন্দেহজনক ফোন নম্বর থেকে আসা কল বা খুদে বার্তায় কোনো ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য বা আর্থিক লেনদেনের তথ্য শেয়ার না করা, ফোনে আসা কোনো ধরনের লিংক ওপেন করা থেকে বিরত থাকা ও স্বপ্ন থেকে ফোন করার নামে কোনো ওটিপি চাইলে তা না দিতে গ্রাহকদের সতর্ক করেছে স্বপ্ন।
এর আগে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার সংবেদনশীল নানা তথ্য ইন্টারনেট জগতে ফাঁস হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পুলিশের এক লাখের বেশি সদস্যের ব্যক্তিগত তথ্য। তথ্য ফাঁস হওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে সরকারের ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার, নির্বাচন কমিশন, সেবা সংস্থা, কয়েকটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, পরিবহনসংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, কয়েকটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে ছিল নাগরিকের নাম, পেশা, রক্তের গ্রুপ, মা–বাবার নাম, ফোন নম্বর, বিভিন্ন ফোনকলে তিনি কত সময় কথা বলেছেন সেই হিসাব, গাড়ির নিবন্ধন নম্বর, পাসপোর্টের বিস্তারিত তথ্য ও আঙুলের ছাপের ছবি।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, তথ্য ফাঁসের ফলে নানা ধরনের অপরাধের ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশ্বজুড়ে পরিচয় চুরির মাধ্যমে আর্থিক অপরাধ করা যায়। বাংলাদেশেও এ ধরনের অপরাধ বাড়ছে। এমনকি ব্যক্তির অজান্তে তাঁর নামে ব্যাংকঋণ নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।