ঈদ শেষে স্বস্তি নিয়ে ঢাকায় ফিরছে মানুষ

· Prothom Alo

ঈদের ছুটি শেষে আবার কর্মব্যস্ত রাজধানী ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বাস, ট্রেন ও লঞ্চে করে ঢাকায় ফিরছে যাত্রীরা। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর মহাখালী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল, কমলাপুর রেলস্টেশন এবং সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। যাত্রাপথে স্বস্তির অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন নগরের বাসিন্দারা।

Visit afrikasportnews.co.za for more information.

দুপুর ১২টার দিকে মহাখালী আন্তজেলা বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, উত্তরবঙ্গ, ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা ও টাঙ্গাইল অঞ্চলের যাত্রীরা বাসে করে ঢাকার ওই টার্মিনালে নামছেন। টার্মিনালে পৌঁছানোর আগে মহাখালী কাঁচাবাজার ও কলেরা গেটের বাসস্টপেও যাত্রীদের বাস থেকে নামতে দেখা গেছে। অনেকের সঙ্গে পরিবারের অন্য সদস্যরাও ছিলেন। হাতে ছিল গ্রাম থেকে আনা বাজার-সদাই ও নানা জিনিসপত্রের ব্যাগ।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অরিন ট্রাভেলসের একটি বাসে করে রংপুর থেকে ঢাকায় ফেরেন রাশেদুল ইসলাম। তাঁর সঙ্গে দুই ছেলে ও স্ত্রী ছিলেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাড়ি যাওয়ার সময় যানজটের ভোগান্তি ছিল। তবে গ্রামে সবার সঙ্গে ঈদ করতে পেরে ভালো লেগেছে। আর ফেরার সময় রাস্তায় খুব একটা যানজট পাইনি। ঢাকায় এসে একটু ভিড় দেখছি।’ অফিস আজ শুরু হলেও তিনি একদিন বেশি ছুটি নিয়েছেন বলে জানালেন।

বেলা দেড়টার দিকে কমলাপুর রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ভিড় তেমন একটা নেই। শুধু কোনো অঞ্চল থেকে ট্রেন এসে স্টেশনে থামলেই শুধু রেলের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মীদের ব্যস্ততা দেখা যাচ্ছিল। বিভিন্ন আন্তনগর ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়েই স্টেশনে পৌঁছানোয় প্ল্যাটফর্মে বাড়তি চাপও ছিল না। ট্রেন থেকে নেমে যাত্রীরা অনেকেই দ্রুত স্টেশন ত্যাগ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

ঈদের ছুটির পর রাজধানীতে ফিরছে নগরবাসী। আজ কমলাপুর রেলস্টেশন

বেলা দেড়টায় কমলাপুর স্টেশনে এসে থামে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেন। ওই ট্রেনে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় ফিরেছেন আয়াত মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘অফিস আজ (মঙ্গলবার) থেকেই শুরু। তবে গতকালকের ট্রেনের টিকিট পাইনি। বসকে আগেই জানিয়ে রেখেছিলাম।’ এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তির ছিল বলেও জানান তিনি।

একই ট্রেনে ঢাকায় ফেরেন ঢাকার ধানমন্ডির বাসিন্দা শিব শংকর সাহা। মা-বাবা, স্ত্রী, সন্তান ও বোনদের নিয়ে ১২ জন মিলে পুরো ঈদের ছুটি কাটিয়েছেন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবানে। পুরো ফুরফুরে লাগছে বলে জানালেন।

তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছুটি তো আরও আছে। তবে ছয় দিন ঘুরলাম, আর কত! এখন বাচ্চারা স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিবে। নিজেরাও কাজ শুরু করব।’ ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় নিয়ে শঙ্কা ছিল। ট্রেনে ভিড় থাকলেও দেরি হওয়ার ভোগান্তি হয়নি বলেও জানালেন তিনি।

ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। আজ রাজধানীর গাবতলী এলাকায়

বেলা দুইটার দিকে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, মেয়র হানিফ উড়ালসড়ক হয়ে গোলাপবাগ অংশে এসে থামছে একের পর এক যাত্রীবাহী বাস। রাস্তার পাশেই বাস থামিয়ে নামানো হচ্ছে যাত্রীদের। এতে গোলাপবাগ ট্রাফিক সিগন্যালে হালকা যানজটও হচ্ছে। যাত্রীদের অনেকে তাই বাস উড়ালসড়কের ওপরে থাকতেই নেমে যাচ্ছেন। তবে যাঁদের ব্যাগ ও মালপত্র বাসের বক্সে রয়েছে, তাঁরা বাস থামানোর পর নামছেন। যাত্রীদের অপেক্ষায় টার্মিনাল এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের চালকদের অপেক্ষা করতে দেখা গেল। এই টার্মিনাল দিয়ে সাধারণত চট্টগ্রাম ও দক্ষিণাঞ্চলের জেলা নোয়াখালী, বরিশাল, পটুয়াখালী, খুলনা, যশোর ও সাতক্ষীরা অঞ্চলের যাত্রীরা বেশি আসেন।

নোয়াখালী থেকে একুশে পরিবহনের একটি বাসে ঢাকায় আসেন আলিফ হোসেন। তিনি ঢাকার মগবাজার এলাকায় থাকেন। তাঁর সঙ্গে স্ত্রী ও দুই বোন ছিলেন। আলিফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঈদ ভালোই কেটেছে। আবহাওয়াও বেশ ঠান্ডা ছিল। যাত্রাপথে বড় কোনো সমস্যা ছিল না।’ অটোরিকশায় বেশি ভাড়া চাচ্ছে। তাই বাসে করে মগবাজারের বাসায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানালেন আলিফ।

বিকেলে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন গন্তব্য থেকে ছেড়ে আসা লঞ্চগুলো কিছুক্ষণ পরপর ঘাটে ভিড়ছে। বেলা আড়াইটার দিকে চাঁদপুর থেকে ছেড়ে আসা ‘বোগদাদিয়া-১৩’ এবং পৌনে তিনটার দিকে ইলিশা থেকে ছেড়ে আসা ‘সম্পদ’ লঞ্চটি ঘাটে এসে পৌঁছায়। এ সময় লঞ্চভর্তি যাত্রী দেখা গেছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটি) ঢাকা নদীবন্দর কার্যালয় সূত্রে আজ ভোর থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চল থেকে সদরঘাট টার্মিনালে ৭৩টি লঞ্চ এসেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুট থেকে যাত্রীবাহী লঞ্চ টার্মিনালের পন্টুনে ভিড়ছে। যাত্রীরা পরিবার-পরিজন ও মালামাল নিয়ে নেমে নিজ নিজ গন্তব্যের দিকে রওনা হচ্ছেন। তবে টার্মিনাল এলাকায় পর্যাপ্ত গণপরিবহন না থাকায় অনেকেই সড়কে দাঁড়িয়ে যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করছেন। কেউ কেউ আবার বিকল্প হিসেবে তাঁতীবাজারসহ আশপাশের এলাকায় হেঁটে যানবাহনের খোঁজ করছেন।

পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ। আজ সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে

চাঁদপুর থেকে আসা খায়রুন্নেছা বলেন, ‘আমি খিলক্ষেত যামু। লঞ্চ থেকে নামার পর এক ঘণ্টা দাঁড়ায়া আছি। কোনো গাড়ি পাই না। যেগুলো আছে সেগুলা ডাবল, তিন গুণ ভাড়া চায়। এত ভাড়া চাইলে পোলাপানগুলা লইয়া বাড়ি যামু কেমনে! এহন খুব কষ্টে পইড়া গেলাম।’

বিআইডব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের ঢাকা নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক মোবারক হোসেন বলেন, যাত্রীরা যাতে সদরঘাট টার্মিনাল এলাকায় ফিরে কোনো ধরনের হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার না হন, সে জন্য বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছেন।

Read full story at source