মশা কমানোর জন্য এই পাখিগুলোর বিকল্প নেই
· Prothom Alo
পাখিদের খাবারের তালিকা বেশ বড়। কোনো কোনো পাখি শুধু বীজ বা ফল খেয়ে বেঁচে থাকে, আবার অনেকে পোকামাকড় খেতে খুব পছন্দ করে। প্রকৃতিতে এমন কিছু পাখি আছে যারা মশা ও ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে আমাদের সাহায্য করে। তবে মশা কোনো পাখিরই প্রধান খাবার নয়। এর কারণ হলো ক্যালরি। একটি মশা আকারে খুবই ছোট ও এটি খেলে পাখির শরীরে খুব সামান্যই শক্তি বা ক্যালরি পৌঁছায়। তাই পাখিরা সাধারণত মশার বদলে বড় আকারের ও বেশি ক্যালরিযুক্ত পোকামাকড় শিকার করতে পছন্দ করে। তবে খাবারের অভাব হলে বা সুযোগ পেলে কিছু পাখি মশা খায়। এমন পাখির কথাই জানাব আজ।
Visit mwafrika.life for more information.
বার্ন সোয়ালো (Barn Swallow)
অ্যান্টার্কটিকা ছাড়া বিশ্বের প্রায় সব মহাদেশেই এই পাখি দেখা যায়। এদের পিঠের রং নীল ও গলা লালচে বাদামি। এরা শস্যাগার বা বিল্ডিংয়ের কার্নিশে বাসা বাঁধে। মশা ছাড়াও এরা ওড়ার সময় বাতাসে থাকা বিভিন্ন পতঙ্গ ধরে খায়। পাখিরা বাসা তৈরির জন্য কাদা ও খড় ব্যবহার করে। যদি ছাদ বা আঙিনায় একটি ছোট গর্তে বা মাটির পাত্রে সামান্য পানি দিয়ে কাদা করে রাখা হয়, তবে পাখিরা সেখান থেকে উপকরণ নিয়ে সহজেই বাড়ির আশপাশে বাসা বাঁধবে।
স্নো ফেইরি কি বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর পাখিইস্টার্ন ফোবি (Eastern Phoebe)
এটি একটি ছোট গানের পাখি। এরা মূলত বনভূমি বা পানির উৎসের কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করে। মশা এদের প্রিয় খাবার। এদের গলার স্বর রোমান চন্দ্রদেবী ডায়ানার কণ্ঠের মতো বলে ধারণা করা হয়। বাড়ির ছাদে বা বারান্দায় ছোট ঝুলন্ত তাক রাখলে এরা সেখানে বাসা বাঁধতে পারে।
বেগুনি মার্টিন (Purple Martin)
উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে বড় সোয়ালো প্রজাতির পাখি এটি। এদের গায়ের রং গাঢ় নীল, যা আলোতে বেগুনি দেখায়। এরা দলবদ্ধভাবে ফাঁপা গাছ বা কৃত্রিম ঘরে থাকতে পছন্দ করে। মশা ও মৌমাছি এদের প্রধান খাদ্য। এদের আকৃষ্ট করতে খোলা জায়গায় ১০–১৫ ফুট উঁচু খুঁটিতে সাদা রঙের ছোট ছোট পাখির ঘর তৈরি করে দেওয়া যেতে পারে।
টিয়া পাখি কি নিজের বলা কথা বুঝতে পারেব্ল্যাকপল ওয়ার্বলার (Blackpoll Warbler)
পাখিগুলো সাদা-কালো পালকের ও আকারে বেশ ছোট। এরা মূলত বনভূমি ও ঝোপঝাড়ে বাস করে। গাছের ডালে ঘুরে ঘুরে মশা, মাকড়সা ও পিঁপড়া শিকার করে এরা। উঠোনে যদি ঘন লতাপাতা বা গাছপালা থাকে, তবে এই পাখিগুলো সেখানে আসার সম্ভাবনা বেশি।
মাসকোভি হাঁস (Muscovy Duck)
এটি মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার স্থানীয় হাঁস হলেও এখন অনেক জায়গায় দেখা যায়। এরা আকারে বড় হয় ও ওজনে প্রায় ১৫ পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে। মশা ও মশার লার্ভা ছাড়াও এরা ছোট মাছ ও সরীসৃপ খায়। বাড়ির আশপাশে ছোট পুকুর বা পানির আধার থাকলে এরা সেখানে বসতি গড়ে।
পাখি দেখা মস্তিষ্ককে যেভাবে বদলে দেয়ব্লুবার্ড (Bluebird)
ব্লুবার্ড মূলত তৃণভূমি অঞ্চলে বাস করে। এরা গাছের গহ্বর বা কৃত্রিম বাক্সে বাসা তৈরি করতে পছন্দ করে। মশার পাশাপাশি এরা লার্ভাজাতীয় পোকামাকড়ও খায়। খোলা জায়গায় ব্লুবার্ড বক্স বা কৃত্রিম বাসা বসালে এই সুন্দর নীল রঙের পাখিগুলো বাগানের মশা মুক্ত রাখবে।
রামগাংরা পাখিরামগাংরা (Great Tit)
দেখতে খুব সুন্দর বাগানের পাখি। এর শারীরিক গঠন ও রঙের বিন্যাস বেশ নজরকাড়া। এর পিঠের দিকটা সবুজাভ ধূসর এবং লেজের রং ফ্যাকাশে ধূসর নীল, যার শেষ প্রান্তে সাদা একটি রেখা দেখা যায়। এর মাথা কুচকুচে কালো হলেও গাল দুটি ধবধবে সাদা, যা পাখিটিকে আলাদাভাবে চিনতে সাহায্য করে। খাবারের তালিকায় মূলত বাদাম, বিভিন্ন ধরনের বীজ ও পোকামাকড় পছন্দ করে। বাগানের ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ খেয়ে এরা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করে।
সূত্র: এ টু জেড অ্যানিম্যালসস্তন্যপায়ীরা কেন সাপ, পাখি বা মাছের মতো রঙিন না