‘বাড়িতে তো যেতেই হবে’
· Prothom Alo

ঈদযাত্রার শেষ দিন আজ শুক্রবারও রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঘরমুখী মানুষের ভিড় আছে।
Visit asg-reflektory.pl for more information.
যাত্রীরা বলছেন, তাঁরা মূলত ব্যাপক ভিড় এড়াতে বাড়ি ফেরার জন্য আজকের দিনটি বেছে নিয়েছেন। তবে টার্মিনালে এসে দেখেন, আজও ভিড় আছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দক্ষিণাঞ্চলগামী বিভিন্ন লঞ্চে যাত্রী উঠছেন। ঝড়বৃষ্টি নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ আছে। তবে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদ্যাপনের জন্য বাড়ি ফিরতে তাঁরা উন্মুখ।
সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে সদরঘাটের লালকুঠি ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ভোলাগামী আল শাফিন সাত্তার খান লঞ্চে উল্লেখযোগ্য যাত্রী রয়েছেন। একইভাবে বেলা ১১টায় চাঁদপুরগামী ইমাম হাসান লঞ্চেও যাত্রীদের ভিড় দেখা যায়।
সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীদের ভিড়। আজ শুক্রবারপূবালী-১২ লঞ্চে করে ঢাকা থেকে পটুয়াখালী যাচ্ছেন পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী পারভেজ হাওলাদার। সঙ্গে স্ত্রী হালিমা বেগম, ছেলে আরাবি হোসেন ও মেয়ে আদিবা।
ঝড়বৃষ্টির পূর্ভাবাস আছে। এ নিয়ে কোনো ভয় কাজ করছে কি না—এমন প্রশ্নে পারভেজ হাওলাদার বলেন, ‘আমরা তো দক্ষিণ অঞ্চলের লোক। ছোটবেলা থেকেই যাওয়া–আসার অভ্যাস। তবু ভয় তো আছেই। আল্লাহর ওপর ভরসা করেই যাচ্ছি। অনেকেই যাচ্ছেন। বাড়িতে যেহেতু মা-বাবা, ভাই-বোন আছেন, বাড়িতে তো যেতেই হবে।’
ঈদের ছুটিতে ঈগল-৮ লঞ্চে করে ঢাকা থেকে পটুয়াখালীর বাউফল যাচ্ছেন হাসান মাহমুদ। পড়াশোনার পাশাপাশি পুরান ঢাকার বাংলাবাজারে একটি বইয়ের দোকানে চাকরি করেন তিনি। হাসান মাহমুদের সঙ্গে রয়েছে পোষা টিয়াপাখি ‘রাজু’ ও পোষা বিড়াল ‘মিনি’।
সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে পূবালী-১২ লঞ্চহাসান মাহমুদ বলেন, শেষ দিন ভিড় কম হবে, স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি ফিরতে পারবেন, সে কারণেই ঈদযাত্রার জন্য আজকের দিন বেছে নিয়েছেন।
হাসান মাহমুদ বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে ছোট ভাইসহ বাড়ি যাচ্ছি। এখন লঞ্চঘাটে এসে দেখি ঝড়বৃষ্টি আসবে মনে হচ্ছে। হালকা ভয় কাজ করছে। কিন্তু কোনো উপায় তো নেই।’
কাজের ব্যস্ততা শেষ করে পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে আজ ঢাকা থেকে চাঁদপুর যাচ্ছেন সাদ্দাম হোসেন। ময়ূর-১০ লঞ্চে করে ঢাকা থেকে চাঁদপুর যাবেন তিনি। দুপুর ১২টার সময় লঞ্চ ছাড়ার কথা। কিন্তু এর আগে ঝড়ের আভাস দেখা দেয়। প্রবল বাতাসের সঙ্গে নামে বৃষ্টি।
লঞ্চে করে যাচ্ছেন, ঝড় নিয়ে মনে কোনো ভয় কাজ করছে কি না—এমন প্রশ্নে সাদ্দাম হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঝড়-তুফান বৃষ্টি-বাদল যা থাকুক, ঈদের আনন্দটা তো সবচেয়ে বেশি পরিবারের সঙ্গে করার মাঝে। এ জন্য যত কিছুই হোক, ঈদে আমাদের বাড়ি যেতে হবে।’
সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল পরিদর্শন করেছেন নৌ প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানবেলা ১১টার সময় সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল পরিদর্শনে আসেন নৌ প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তাঁর ৪০ বছরের যে অভিজ্ঞতা, সেই তুলনায় এবারের ঈদযাত্রা নিয়ে তিনি পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন। তবে তিনি বলতে পারেন, তাঁরা একটু ভালো সেবা দিতে পেরেছেন। সংবাদমাধ্যমে কিংবা অন্য যারা এই বিষয়ে নজরদারি করে, তাদের বিশেষ কোনো বড় ধরনের অভিযোগ তিনি এখন পর্যন্ত পাননি। নৌপথে যে ভাড়া, সে বিষয়েও কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
সদরঘাটে লঞ্চ দুর্ঘটনার বিষয়ে নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি দুর্ঘটনা হয়েছে দুর্ভাগ্যজনকভাবে। বিষয়টি অত্যন্ত মর্মান্তিক। কিন্তু সেটি টার্মিনালে হয়নি। টার্মিনালের বাইরের একটি বিষয়। এই ঘটনার পর তাঁরা নৌকায় করে কিংবা ট্রলারে করে লঞ্চে ওঠা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছেন। এই বিষয়টি তাঁরা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবেন।
ঈদের পর বাড়ি থেকে মানুষের নিরাপদে ঢাকায় ফেরা প্রসঙ্গে রাজিব আহসান বলেন, আগামীকাল থেকে সরকারের লক্ষ্য থাকবে, যে মানুষগুলো বাড়ি গেছে, তারা যেন ঈদের পর আবার ঢাকায় স্বাভাবিকভাবে, সুস্থভাবে ফিরে এসে কর্মক্ষেত্রে যোগ দিতে পারে। সে জন্য সরকার চাঁদপুর, বরিশাল, পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন ঘাটে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।