জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্যাতন–ধর্ষণের বিচার দাবিতে ছাত্রীদের বিক্ষোভ

· Prothom Alo

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থীকে বাসায় আটকে নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনায় বিচার চেয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিভিন্ন বিভাগের ছাত্রীরা। রোববার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টারজান পয়েন্ট এলাকা থেকে তাঁরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি কয়েকটি সড়ক ঘুরে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ক্যাম্পাসের একজন শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের মতো জঘন্যতম অপরাধ করার পরও প্রশাসন চুপচাপ। তাহলে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা কোথায়? প্রক্টরের কাছে অভিযোগ করতে গেলে যখন তিনি ‘ওয়ার্কিং আওয়ারে’ আসতে বলেন, তখন ছাত্রীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। ঘটনার পাঁচ দিন পার হলেও ধর্ষক এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়নি, এই দায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে নিতে হবে।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সংগঠক সোহাগী সামিয়া বলেন, ‘যে প্রশাসন গণ-অভ্যুত্থান–পরবর্তী সময়ে নিজেদের নারী শিক্ষার্থীবান্ধব হিসেবে দাবি করে, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে গণ-অভ্যুত্থানের পর এমন কোনো পদক্ষেপ দেখলাম না যেখানে নারীদের অধিকার সুনিশ্চিত করতে পারে। সেটার ধারাবাহিকতায় গত কয়েক দিন আগে যে নির্মম ঘটনা ঘটেছে, সে ক্ষেত্রেও প্রশাসন নিশ্চুপ থেকেছে। প্রশাসন বলেছে, যিনি ঘটনাটি ঘটিয়েছেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী, তাঁর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু যাঁর সঙ্গে ঘটনাটি ঘটেছে, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তাঁর নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন এখন পর্যন্ত কেন চুপ করে বসে আছে, সেটা আমাদের বড় প্রশ্ন।’

এদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তির শাস্তির দাবিতে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে ভাস্কর্যের পাদদেশে মানববন্ধন ও মৌন মিছিল করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক-প্রশাসন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। মৌন মিছিলটি অমর একুশের পাদদেশ থেকে শুরু হয়ে শহীদ মিনার এলাকা হয়ে নতুন কলা ভবন ঘুরে আবার অমর একুশে ভাস্কর্যের সামনে এসে শেষ হয়।

মানববন্ধনে লোকপ্রশাসন বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাদিকা আফরিন বলেন, ‘এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সাক্ষীদের যেন কোনো ধরনের হেনস্তা বা চাপের মুখে পড়তে না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের সজাগ থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’

লোকপ্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক হরে কৃষ্ণ কুন্ডু বলেন, ‘এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও নিন্দনীয় ঘটনা। ঘটনার রাতেই বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক ভুক্তভোগীর পাশে ছিলেন এবং চিকিৎসা শেষে তাঁকে বাসায় পৌঁছে দেন। ভুক্তভোগী ইতিমধ্যে থানায় মামলা করেছেন। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর পরিবারকে হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, যা ভুক্তভোগীর মানসিক ট্রমা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।’

গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে ইসলামনগর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় ভুক্তভোগী ছাত্রীকে ‘ব্ল্যাকমেল করে’ বাসায় নেন এস এম তারিকুল ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির সাবেক শিক্ষার্থী। বাসায় নেওয়ার এক পর্যায়ে তাঁকে শারীরিকভাবে অমানবিক নির্যাতন করেন। পরে ওই ছাত্রী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এ কল করলে আশুলিয়া থানা-পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন।

পরদিন বুধবার আশুলিয়া থানায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে তারিকুল ইসলামকে আসামি করে শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। এ ঘটনার পাঁচ দিন পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গতকাল তদন্ত কমটি গঠন করেছে এবং অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সনদপত্র সাময়িকভাবে স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Read full story at source