মায়ামিতে আবাসন সাম্রাজ্যও গড়ছেন মেসি
· Prothom Alo

দক্ষিণ ফ্লোরিডায় কেবল ফুটবল মাঠে নয়, বরং সেখানকার শহর ব্রিকেলের বিলাসবহুল আকাশছোঁয়া ভবনেও দাপুটে বিচরণ করছেন লিওনেল মেসি। সম্প্রতি সিপ্রিয়ানি রেসিডেন্স মায়ামিতে চারটি বিলাসবহুল কন্ডোমিনিয়াম (অ্যাপার্টমেন্ট) কিনেছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। ৮০ তলার এই টাওয়ার ব্রিকেল শহরের কেন্দ্রস্থলে গড়ে উঠছে। এর মধ্য দিয়ে শহরটির সঙ্গে মেসির সম্পর্ক আরও দৃঢ় হলো।
Visit arroznegro.club for more information.
দক্ষিণ ফ্লোরিডায় গত বছর সানি আইলস বিচে পোরশে ডিজাইন টাওয়ারেও একটি বাড়ি কেনেন মেসি। এভাবে বাড়ি কেনা স্পষ্টভাবেই দীর্ঘমেয়াদে তাঁর ফ্লোরিডায় থাকার ইঙ্গিত দেয়। পিএসজি থেকে মেসি ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন ২০২৩ সালে।
বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী ২০২৮ সাল পর্যন্ত ইন্টার মায়ামিতে থাকবেন মেসি। পাশাপাশি সাম্প্রতিক নানা ঘটনাও ইঙ্গিত দেয়, আর্জেন্টাইন তারকা হয়তো শিগগিরই মায়ামি ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন না। বিশেষ করে তাঁর আবাসন প্রকল্পের বাড়ন্ত পোর্টফোলিও এমন ইঙ্গিতই দিচ্ছে।
মেসির নতুন অ্যাপার্টমেন্ট
সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মেসি সিপ্রিয়ানি রেসিডেন্সে শীর্ষ তলায় চারটি ইউনিট কেনার চুক্তি করেছেন। বিলাসবহুল এই প্রকল্পটি বর্তমানে ১৪২০ সাউথ মায়ামি অ্যাভিনিউতে নির্মাণাধীন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসবের মধ্যে একটি আবাসনের মূল্যই প্রায় ৭৫ লাখ ডলার। মাস্ট ক্যাপিটাল নির্মিত এবং ফরচুন ডেভেলপমেন্ট সেলসের একচেটিয়া তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই টাওয়ারটি যুক্তরাষ্ট্রে সিপ্রিয়ানির প্রথম গ্রাউন্ড-আপ আবাসিক প্রকল্প (একেবারে শূন্য থেকে, জমি কিনে ভিত্তি গড়ে নতুন করে আবাসিক ভবন নির্মাণ করা)। ভবনটির নির্মাণকাজ ২০২৮ সালে শেষ হওয়ার কথা।
পরিবারসহ নিজের বাড়িতে মেসিমেসি যে ভবনটিতে অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছেন, সেখানে এক থেকে চার শয়নকক্ষের মোট ৩৯৭টি অ্যাপার্টমেন্ট থাকবে। যার একেকটির প্রারম্ভিক মূল্য ১৭ লাখ ডলার। মেসির কেনা ইউনিটগুলো তাঁকে একটি বিশেষ মালিকগোষ্ঠীর অংশ করেছে, যা ‘দ্য কানালেত্তো কালেকশন’ নামে পরিচিত। ভবনের শীর্ষে ১৮টি তলায় মাত্র ছয়টি পেন্টহাউস এবং ৬৮টি অতিবিলাসবহুল আবাসন নিয়ে একটি সীমিত ও বিশেষ আবাসন গড়ে তোলা হয়েছে।
মেসির কেনা ইউনিটগুলোর সুনির্দিষ্ট বিন্যাস জানা যায়নি। তবে বিভিন্ন সূত্র বলছে, অন্তত একটি ইউনিটের আয়তন প্রায় ৩,৫০০ বর্গফুট এবং সেখানে চারটি শয়নকক্ষ রয়েছে। সিপ্রিয়ানি টাওয়ার থেকে মায়ামির আকাশ ও বিসকেইন উপসাগরের চারপাশজুড়ে ৩৬০ ডিগ্রি প্যানোরামিক দৃশ্য দেখা যাবে। মেসির মতো তারকার জন্য গোপনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবনটিতে এর নিশ্চয়তা আছে।
অ্যাপার্টমেন্টে যেসব সুবিধা আছে
সোর্ট-ধাঁচের দুটি সুইমিং পুল ও সানডেক, শুধু বাসিন্দাদের জন্য রেস্তোরাঁ ও ব্যক্তিগত স্পিকইজি (গোপনধাঁচের লাউঞ্জ বার), সউনা (উচ্চ তাপমাত্রার ছোট ঘর) ও ট্রিটমেন্ট রুমসহ সমন্বিত স্পা, গলফ সিমুলেট, স্ক্রিনিং রুম, আধুনিক ফিটনেস সেন্টার, পিকলবল কোর্ট এবং ২৪ ঘণ্টা ক্যাটারিং সেবা রয়েছে টাওয়ারে।
বিলাসবহুল এই আবাসনের ইন্টেরিয়র ডিজাইন করেছে ‘১৫০৮ লন্ডন’ ডিজাইন স্টুডিও এবং স্থাপত্য নকশা করেছে খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান ‘আরকিটেকটোনিকা’। মেসির অর্থনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষিতে এই বিনিয়োগ তাঁর জীবনধারা ও আর্থিক কৌশলের সঙ্গে বেশ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
View this post on Instagram
মেসির বর্তমান আবাস
দক্ষিণ ফ্লোরিডায় ইতমধ্যেই বেশ বড়সড় জায়গায় বসবাস করছেন মেসি। ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি ফোর্ট লডারডেলে দলের অনুশীলন কেন্দ্রের কাছাকাছি ১ কোটি ৭ লাখ ডলারে ওয়াটারফ্রন্ট ম্যানশন কিনেছিলেন।
১০,৫০০ বর্গফুটের এই সম্পত্তি বে কলোনি কমিউনিটিতে অবস্থিত এবং এতে রয়েছে—৮টি শয়নকক্ষ, ৯টি বাথরুম, ২টি ডক, ১৭০ ফুটের ওয়াটার ফ্রন্টেজ, সুইমিং পুল, ১,৬০০ বর্গফুটের প্রধান সুইট, ফিটনেস রুম ও স্পা, বিনোদন লাউঞ্জ এবং অফিস স্পেস। ম্যানশনের ইন্টেরিয়র ডিজাইন করেছেন লরিস মরিস।
এর আগে মেসি সানি আইলস বিচের পোরশে ডিজাইন টাওয়ারে একটি আবাসন কেনেন। এই টাওয়ারটি তাঁর স্বয়ংক্রিয় গাড়ি লিফট ব্যবস্থার জন্য বিখ্যাত, যা বাসিন্দাদের গাড়ি সরাসরি বসার ঘরের পাশে পার্ক করার সুবিধা দেয়। কাচের লিফট গাড়িকে ওপরের তলায় নিয়ে যায়, যা মূলত ইন্টেরিয়রের অংশ। ৫৬ তলার এই টাওয়ারের সব বাসিন্দার অবশ্য ব্যক্তিগত স্কাই গ্যারেজ নেই, তবে মেসির মতো কেউ হলে এমন সুবিধা মেলে।
বিনিয়োগ কৌশল না স্থায়ী আবাসন?
এটি স্পষ্ট নয় যে সিপ্রিয়ানি রেসিডেন্সে চারটি ইউনিট মেসি নিজে ব্যবহার করবেন নাকি কিছু অংশ শুধু বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে কেনা হয়েছে। তবে দক্ষিণ ফ্লোরিডার বিলাসবহুল কন্ডোমিনিয়াম বাজারে সম্প্রতি বেশ মূল্য বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।
তবে মেসি ফ্লোরিডায় যেভাবে নিজের সাম্রাজ্য বাড়াচ্ছেন, তাতে বোঝা যাচ্ছে এটি শুধু লাভের আশায় বিনিয়োগ নয়। মায়ামি যেসব কারণে মেসির কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে তা হলো, এই শহর আর্জেন্টিনার কাছাকাছি, লাতিন আমেরিকার সংস্কৃতির সঙ্গে মিল আছে, উন্নত মানের প্রাইভেট স্কুল এবং মানানসই জলবায়ু।
পিএসজি ছেড়ে মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে মেসি ব্যবসায়িকভাবে দারুণ সুযোগ পেয়েছেন। এমএলএসে যোগ দেওয়ার কারণে ইন্টার মায়ামি ব্র্যান্ড হিসেবে অনেক উন্নত হয়েছে। পাশাপাশি টিকিট বিক্রিও বেড়েছে এবং শহরটিকে ফুটবলের নতুন কেন্দ্র হিসেবে রূপান্তরিত করেছে। একই সময়ে মেসির সম্পত্তি ক্রয়ও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ফ্লোরিডায় ক্রমবর্ধমান একটি সাম্রাজ্য
ফোর্ট লডারডেলে ওয়াটারফ্রন্ট এস্টেট থেকে শুরু করে সানি আইলসের স্কাই গ্যারেজ এবং এবার ব্রিকেলের পেন্টহাউস—মেসি এখন দক্ষিণ ফ্লোরিডায় রিয়েল এস্টেট সাম্রাজ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী নামীদামি মানুষদের একজন। তাঁর এই বিনিয়োগ যে দীর্ঘমেয়াদি তাও একরকম স্পষ্ট। তবে মায়ামিতে মেসির এই দাপট শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামে, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।