ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে দখল, দুর্ঘটনার ঝুঁকি
· Prothom Alo

ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কে ঝিনাইদহের কুলচারা থেকে চড়িয়ারবিল বাজার পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে অন্তত পাঁচটি স্থানে গাছের গুঁড়ি রেখে ব্যবসা করছেন কাঠ ব্যবসায়ীরা। ফলে ব্যস্ত এই মহাসড়কে যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি বাড়ছে। সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের চালক ও স্থানীয় লোকজন মহাসড়কের দুই পাশ দখলমুক্ত করে চলাচলের উপযোগী করার দাবি করেছেন।
Visit milkshakeslot.com for more information.
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, ঝিনাইদহ থেকে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত জাতীয় মহাসড়কের চড়িয়ারবিল বাজার, গাড়াগঞ্জ বাজার, ভাটই বাজার, চাঁদপুর মোড় ও কুলচারা মোড়ে রাস্তার দুই পাশে (ওয়াকওয়ে) গাছের গুঁড়ি রেখে দিয়েছেন কাঠ ব্যবসায়ীরা।
চড়িয়ারবিল বাজার এলাকার ভ্যানচালক সাহেব আলী বলেন, এই রাস্তা দিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী থেকে খুলনা ও মংলা বন্দর পর্যন্ত প্রতিদিন হাজার হাজার দূরপাল্লার গাড়ি চলাচল করে। পাশাপাশি ছোট ছোট যানবাহন ও নিকট দূরত্বের যানবাহনগুলো সড়কের পাশ দিয়ে চলাচল করে। কিন্তু চড়িয়ারবিল বাজারের আনসার উদ্দিন মাস্টারের স মিলের পাশে মহাসড়কের দুই পাশে গাছের বড় বড় গুঁড়ি রেখে দেওয়া হয়েছে। এখানে মহাসড়কের ওপরেই জ্বালানি কাঠ বিক্রি করা হয়, যা আমাদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়।
হাশেম আলী নামের এক জ্বালানি কাঠ বিক্রেতা গ্রামের থেকে গাছের ডালপালা ও ছোট গাছ কিনে এনে মহাসড়কের ওপরেই সাজিয়ে রাখেন। এখানেই কেনাবেচা করেন। তিনি আরও বলেন, ‘শুধু আমি নই, আনসার উদ্দিন মাস্টারের স মিলের আশপাশে মহাসড়কের ধারে অন্তত ২০ জন কাঠ ব্যবসায়ী তাঁদের কেনা গাছের গুঁড়ি ফেলে রেখেছেন। কেউ এখানে রাখতে নিষেধ করেনি, তাই আমরা এখানেই রাখি।’
কাঠ ব্যবসায়ী লাভলুর রহমান বলেন, ‘আমাদের ব্যবসা মিলকেন্দ্রিক। তাই মিলের আশেপাশে মহাসড়কের ধারেই গাছ কিনে এনে রাখি। এখান থেকেই বিক্রি হয়ে যায়।’ তিনি স্বীকার করেন, গাছের গুঁড়ি রাখার জন্য সড়কে চলাচলে ঝুঁকি আছে। তবে কেউ নিষেধ না করায় রাস্তার ধারেই রাখেন। তাঁর মতো আরও কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাঠ মহাসড়কের ধারে রাখা আছে।
দুই বছর ধরে আনসার উদ্দিনের স মিলটি লিজ নিয়ে চালাচ্ছেন আতিয়ার নামের এক ব্যক্তি। তিনি আরও বলেন, ‘আমি লিজ নিয়ে মিলটি চালাচ্ছি। আগে থেকেই এখানে রাস্তার ধারে এভাবে গাছের গুঁড়ি রাখা হতো। মিলের মধ্যেও যতটুকু জায়গা, সেখানেই রাখা হয়। কাঠ ব্যবসায়ীরা নিজেদের লাভের কারণে এভাবে রাখেন।’
স্থানীয় লোকজন বলছেন, চড়িয়ারবিল বাজার থেকে ঝিনাইদহের দিকে যেতে আবদুল গাফফারের একটি স মিল আছে। সেখানেও একই অবস্থা। গাড়াগঞ্জ এলাকার সহিদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘গাড়াগঞ্জ বাজার থেকে ঝিনাইদহের দিকে যেতে আফাজ উদ্দিন নামের এক ফার্নিচার ব্যবসায়ী রাস্তার ওপরেই গাছের গুঁড়ি ও জ্বালানি কাঠ রেখে দেন। আমরা নিষেধ করলেও শোনেন না।’
ভাটই বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী মহাসড়কের পাশ দখল করে গাছের গুঁড়ি ও উচ্ছিষ্ট কাঠ রেখে দিয়েছেন। মিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘কাঠ দেখে ফার্নিচারের অর্ডার করেন কাস্টমাররা। তাই সব ব্যবসায়ী এভাবে রাস্তার ধারেই গাছের গুঁড়ি রেখে দেন। তবে এভাবে রাখলে সড়কে ঝুঁকি হতে পারে, তা কখনো ভাবি নাই।’
ঝিনাইদহের আরাপপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস বলেন, ‘সড়কের ধারে গাছের গুঁড়ি বা অন্য যেকোনো জিনিস রাখা বেআইনি। এর কারণে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের চড়িয়ারবিল বাজার পর্যন্ত পাঁচ-ছয়টি স্থানে এভাবে গাছের গুঁড়ি বা অন্যান্য জিনিস রাখা আছে বলে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দ্রুতই এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’